তথ্যচিত্র রূপকথা
১.
করিডোরের জানালা দিয়ে আসা গুঁড়ো গুঁড়ো আলোর বিন্দু ঝলসে দেয় এই নীলচে ঘোর। মাঝরাতের উদাসীন সিগন্যাল ভিজে যাচ্ছে সেই তোড়ে। আর জংশন পেল কাটোয়া লোকাল।
মোরাম জুড়ে অপার্থিব এক আলোর বৃষ্টি। ফেরিঘাট এ কেমন মায়াময়? রঙের চলকে পড়া ক্রমাগত গাঢ় হয়ে আসছে। আর এলোপাথাড়ি ক্যানভাস। এরপর একটানা লাল সুড়কির পথ ছিল। শব্দে পেস ছিল প্রচুর। মোম-মজলিশের পরতে পরতে হিম জমেছিল খানিক। আরশিময় তার কোলাজ।
রেলকামরা বদলে যাচ্ছে তন্ত্রে। ওয়াইড এই জেনে তার প্রস্তাবনা অবভিয়াস করে তোলে এক নীল বর্নালী, বালিয়াড়ি আর মরসুমী ক্যাপস্টানে ঘন হতে থাকে সেইসব ভোররাত।
ফেড্ হয়ে এল নিয়ন। আর করিডোর নড়ে চড়ে হ্যালুসিনেশনের বিট্ অনুযায়ী, সাইরেনের যাতায়াতে বড়ো স্থবির এই ফুটপাত।
অনুষঙ্গ পিছলে গেল শুনশান হাইওয়েতে।
তারপর ফেরিঘাট আবছা হয়ে আসে বৃষ্টি শামিয়ানায়।
২.
রূপকথা সবুজ হয়ে আসে ইতস্তত এই নিয়নে।
ফ্যাকাশে হলো হ্যালোজেন, আর তাতে মেটালিক টিউন। সুরের অছিলায় বাড়ল কমিউনিকেশন গ্যাপ। আজ এই সূর্যে, ভেঙে তুবড়ে গেছে শব্দের পেস। চুলের কুচি ঝরে অবাধ প্রপাতের মতো। অতএব, ন্যারেশন নষ্ট করে চলুক এই নির্বিকার আয়তন। নেশানগরীর লেন বাইলেনে।
এ হেন সবুজ স্কেচে ছড়িয়ে পড়ছে রোদ্দুর। তার শরীরী মুদ্রায় আড়মোড়া ইষৎ। মেলোডি পেল আড়বাঁশী। কুয়াশায় ডুবে আছে অ্যালবাম। আর এই সানসেট।
অগোছালো রং থেকে ক্রমশ রেখা। আনুভূমিক চারকোল যখন জেটি থেকে জলের ফসফরাসে। শিল্প নির্মাণের ফর্ম ভাঙছে এই মেদুর আলোয়।
আঁখি বিন্দু তার নিস্বর্গ নামায় এই করিডোরে।
তবে কেন এ মরীচিকা? যার উত্তাল পদক্ষেপে, অনায়াস এই মেঘমিনার। সমান্তরাল ইস্পাত ঘেঁষে চলুক এই শব্দ সব। রাতের ক্যাপস্টান তোলা থাকুক রঙীন গালিচায়। যতক্ষণ রূপকথা নেয় এই হাইওয়ে।
# লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সৌপ্তিক চক্রবর্তী সম্পাদিত ‘প্রতিষেধক’ পত্রিকার দশম সংখ্যায় (মে, ২০০৭)।
রাতুল পাল
রাতুল পালের জন্ম ও বেড়ে ওঠা শহরতলী সোদপুরে। অর্থনীতিতে স্নাতক। পেশায় সরকারী আধিকারিক। ‘প্রতিষেধক’ পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকে জড়িত। নিজেকে লেখক হিসেবে কোনো ভাবেই মেলে না ধরা রাতুলের গদ্যচর্চা মূলত ‘প্রতিষেধক’ পত্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাঁর গদ্য নিটোল কোনো আকার নেয় না বরং নির্মাণ করে খন্ড-খন্ড কল্পচিত্রের এক মায়াময় কোলাজ- এটাই রাতুল পালের গদ্যরীতির স্বকীয় মেজাজ।