ভেজা বেড়ালের আঁশ ও অদৃশ্য ভ্রমণ
একটা বেড়ালের আয়তন অনুযায়ী আমি স্বপ্নের চুয়িংগামে তোমাকে আটকে রাখি। ভোর হতে অনেক দেরি সুমন বলে গেছে।
এই সুমনকে পাম্মা চেনে। আর পাম্মাকে একবার দেখে ছিলাম ঘেঁষের মাঠে। কিন্তু এই মানুষগুলোর অস্তিত্ব আমি মেনে নিয়েই, বেড়ালের যৌনতা লক্ষ্য করছিলাম বহুক্ষণ। আমি যাদের এই মুহূর্তে শব্দ আর বিকারের মাঝখানে টিকে থাকতে দেখছি, তাদের আমি ঠিক কোনো মশলার কৌটোর ভেতর রাখবো জানি না। আমি এদের থেকে মুতামুতি ছাড়া আর তেমন কিছুই শিখতে পারিনি।
কেউ যদি বলে সুমনের নুনুটা টিপে দিয়েছিল একটা পাগল! তাহলে আমি ধরে নিচ্ছি সুমন নিশ্চিত ওই পাগলের সঙ্গে বেড়ালের খোঁজ নিচ্ছিল… এই সুমন আসলেই ল্যাপটপে ঢুকে যাওয়া একটা ফিতাকৃমি! মাথায় হয়। এই জন্যই বরানগর নাম হয়ে ছিল।
লেবুবাগানের আস্তানা দিয়ে চিমনিদের ঢেঁকুর তোলা জানালাগুলো, আসলেই স্লোগানের মতন দেয়ালে দেয়ালে হাঁ করে তাকিয়ে আছে… এই দৃশ্যটা একদিন বোকা নামে একটা ছেলে বলেছিল! ও কেন বোকা আমি এখনও জানি না… ওর কলতলা দিয়ে কি এঁটো চাঁদের আলো আসে? যেটা দেখতে দেখতে সেই বেড়ালের আঁশ দেখেছিল! যেটা কয়েক দিন পর আমার মাছ হয়ে যায়।
কী কী অদ্ভুত স্বপ্ন টুনি ডুমের ভেতর শুয়ে থাকতে মজা লাগছে। মনে হচ্ছে সুমন এখন ওই বেড়ালের সঙ্গে উদমা সেক্স করছে! আর আগে এইসব দৃশ্য আসলেই বালের।
সু
মন+সু= বেড়াল।
আমি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় গান্ডু। কিন্তু ইতিহাস ভূগোল বিজ্ঞান অংক কিছুই পারতাম না। কিন্তু তখন মাথায় সুমন কাজ করতো। স্যার নাকের ভেতর কীভাবে টয়ট্রেন চালানো যায়? সুমন বলেছিল এইসব স্যারেরা ওর থেকে মাঝরাতে পায়রা কেনে। এইসব পায়রা হতেই পারে ভোরবেলা নাক দিয়ে বেরিয়ে উড়ে যায়! আসলে এইসব বিচিত্র দোকানদার আমার অজান্তেই ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে।
আমার এই শীতকাম গাছপায়াতে যে বিছানার ডায়রি আমি উল্লেখ করলাম, তারা আসলেই সুমনের বেড়াল ছানা…
সোমনাথ ঘোষাল
সোমনাথ ঘোষালের জন্ম ১০ আগস্ট, ১৯৮২। জন্মস্থান বরানগর, কলকাতা। জীবিকা- লোকগান সংগ্রাহক, কর্ণধার, দ্য আত্মন অডিও।
প্রকাশিত বই- লেখা সমগ্র (কবিতা ও গদ্য সংগ্রহ), বিরতি গুণছে গতকাল (কাব্যগ্রন্থ), তেলাপিয়া কথা (কাব্যগ্রন্থ) পাখিদের সমাবেশ (কাব্যগ্রন্থ) দেড়তলা (উপন্যাস), চাঁদ ভাঙা জল( গল্পগ্রন্থ), লাল সুব্বার জ্যাকেট (গল্পগ্রন্থ) ইত্যাদি।