গৃহযুদ্ধ
‘গৃহযুদ্ধ’ শিরোনামের অন্তর্গত এই লেখাগুলো প্রথম প্রকাশিত হয় বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ের স্ব-সম্পাদিত পত্রিকা, ‘মুখোশ ও বিকল্প’-র প্রথম সংখ্যায়। ১৯৮৮ সালে। পরবর্তী সময়ে ‘গৃহযুদ্ধ’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বইটার থেকে কিছু কবিতা এখানে রাখা হল:
১.
ফাঁসীর দড়িই দেশ,
গিলোটিনে উড়ে আসে
ফ্লেমিংগোসন্ততি।
চণ্ডাল রাজার মাথা
ছাতু হয়, মরে তাঁর
টিউলিপপ্রসূতি।।
যুদ্ধ এই খেলার গল্প,
রতিক্লান্ত রাত হয়
আইনসংগত।
ডিম পাড়ে ভিখিরীবৌ,
যুদ্ধের প্রকৃতি শুধু
তারই অবগত।।
২০.
নার্গিস টিউলিপ সুরা ও মহুয়ায় পদ্মমাংসের মহান ভোজ
কিংখাব মখমল বেহায়া পারিজাত বীর্যে চন্দন হারেমখোর
যুদ্ধই তৎ সৎ গেরিলা ড্যাফোডিল মন্দাক্রান্তায় সময়পথ
যুদ্ধের হাড়মাস নিয়ত বেড়ে যায় অন্য যুদ্ধের মুখোশ নেয়
২১.
দশকের কাঁটাতার
কোনো কবিতায় আসে না, যুদ্ধেও নয়
৩৯.
শেষদৃশ্যে সূর্য ওঠার স্টিরিওটাইপ ফর্মে বিবেকের ছাবাল কাইন্দে – অহো,
ন্যাঃ তেরা কেয়া হোগা রে কালিয়া – যেন কী আমোঘ প্রশ্ন!
ছাই ছাড়া গোড়ে উঠছে না অন্য চিত্রকল্পের সরাসরি ব্যুহ
৪০.
প্রত্যেক নেশায়
তাবৎ যৌনতায়
সমস্তধরনের খিদেয়
যাবতীয় মেটামরফোসিসে
বিবর্তনের অকাট্য কোলাজ
গৃহযুদ্ধের
মারমুখী আয়নার খেলা
ঠেকানো যাচ্ছে না…
ঋণ স্বীকার: দেবরূপ সরকার (‘হপ্তাক কাচরা’ পত্রিকা ও প্রকাশনা) ও সুস্নাত চৌধুরী (‘বোধশব্দ’ পত্রিকা ও প্রকাশনা)।
বিপ্লব মুখোপাধ্যায়
বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ের লেখালিখির শুরু গত শতকের আশির দশকের শেষ ভাগে। সম্পাদিত পত্রিকা ‘মুখোশ ও বিকল্প’। প্রথম কবিতার বই ‘গৃহযুদ্ধ’। প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী ছাত্র বিপ্লব নিজের প্রসঙ্গে লেখেন ‘নেশা এবং যৌনতার প্রকোপে আমি অধ্যাপক হতে পারিনি’। তাঁর দুর্বার, প্রথাভাঙা ও বেপরোয়া জীবনযাপন ঘিরে নানা ঘটনা ও রটনা বিদ্যমান। আক্ষরিক অর্থেই মাঠে-ঘাটে-রকে-ফুটপাতে একবস্ত্রে দীর্ঘজীবন কাটানো বিপ্লব সচরাচর কথা বলেন না, বহুবছর। নিজের এই ভবঘুরে জীবন সম্পর্কে লেখেন ’কবিতা-সন্ন্যাস’।
অনেক বছর আগে ‘বোধশব্দ’ পত্রিকা প্রকাশ করেছিল ‘বিপ্লব মুখোপাধ্যায়’ সংখ্যা (সম্পাদক: সুস্নাত চৌধুরী)। সম্প্রতি দেবরূপ সরকারের তত্ত্বাবধানে ‘হপ্তাক কাচরা’ (হ) প্রকশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ের রচনা সংকলন ‘যেভাবে গেছি’ (কাব্যগ্রন্থ, কবিতা, গদ্য, লেখার খসড়া ও সাক্ষাৎকার)।